শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

সৃজনশীল শিক্ষাপদ্ধতির প্রয়োগ কেবল গবেষণার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য



সৃজনশীল হওয়া ছেলেখেলা নয় এবং সৃজনশীল শিক্ষাপদ্ধতি কোমলমতি শিশু-কিশোরদের জ্ঞানলাভে প্রয়োগ করা হলে তাদের সৃজনশীলতা অঙ্কুরেই নষ্ট করা হবে, সৃজনশীল হওয়ার পথ সুগম না করে রুদ্ধ করা হবে। এতে ইউরোপের মতো কবি-বিজ্ঞানীর সংখ্যা দেশে বৃদ্ধি না হয়ে জাতির সর্বনাশ অনিবার্য
সমন্বিত শিক্ষাপদ্ধতির কুফলের মতো সৃজনশীল শিক্ষাপদ্ধতির কুফল নিয়ে ভাবতে হবে অভিভাবক মহল, বিদগ্ধ সমাজ সুধীমহলকে। সর্বোপরি নোট-গাইড কোচিং শিক্ষাদানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর যাবতীয় সমস্যার সমাধান যে পদ্ধতি করে দিচ্ছে তাকে আর যাই বলুন, সৃজনশীল শিক্ষাপদ্ধতি বলতে পারেন না। পদ্ধতিকে শিশু-কিশোরের স্বাধীন মনোবিকাশ বাধাগ্রস্ত রুদ্ধ করে দেয়ার একটা ক্ষতিকর শিক্ষাদান পদ্ধতি বলতে পারেন
সৃজনশীল শিক্ষাপদ্ধতির প্রয়োগ কেবল গবেষণার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। শিশু-কিশোরদের শিক্ষাদানে সৃজনশীল পদ্ধতির প্রয়োগ ভবিষ্যত্ প্রজন্মকে সৃজনশীল না করে তার সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশকে করে দেবে রুদ্ধ, জাতিকে করবে পঙ্গু। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের হোতা হিটলার তারডধত্নামক গ্রন্থে বলেছেন, ‘কোনো দেশের ওপর অ্যাটমবোমা বিস্ফোরণের ফলে যে ক্ষতি হবে, তার চেয়ে বেশি ক্ষতি হবে যদি সে দেশের মানুষের স্বদেশ প্রেম, কাজের স্পৃহা, চরিত্র, শিক্ষা নৈতিকতাএই পাঁচটি জিনিস নষ্ট করে দেয়া যায়।দাতাগোষ্ঠী বিশেষত মার্কিন মোড়ল এই পাঁচটি বিষয়কে সামনে রেখেই আমাদের এমনভাবে সাহায্য দেয়, যাতে এই পঞ্চশক্তিকে পঙ্গু করে দিতে পারে এবং আমাদের উন্নতির পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়। তখন দেশটি কেবল তাদের শিল্পপতি ব্যবসায়ীদের পণ্য বিক্রিরপণ্যবাজারবলে গণ্য হবে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের এককালের চেয়ারম্যান অধ্যাপক . হুমায়ুন আজাদ বলেছেন, ‘আমাদের দেশের স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে আজও ঊনবিংশ শতকের পুরনো জ্ঞানের জাবরকাটা হচ্ছে।অতএব আমরা দেখতে পাই, আমাদের স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্জিত জ্ঞান ডিগ্রি বিদেশে বিশেষত ইউরোপ-আমেরিকার কোনো দেশে প্রশংসা পাওয়া তো দূরে থাক, গ্রহণযোগ্যতাও পায়নি। মহাকালের মহাবিজ্ঞানী স্টিফেন ডব্লিউ হকিং বলেছেন, ‘জ্ঞানের বিকাশ এত দ্রুত ঘটছে যে, আমাদের স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে যা পড়ানো হয় তা সেকেলে।মহাবিজ্ঞানী হকিংয়ের উদ্ধৃতি থেকে আমরা উপলব্ধি করতে পারি, জ্ঞান আহরণের ক্ষেত্রে আমরা আরও কত পিছনে পড়ে আছি। বিশ্বের যেসব শিক্ষালয়ে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করা হয়, সেগুলোকে বিশ্ববিদ্যালয় বলা হয়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে আমাদের দেশের কটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৃতপক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় বলে গণ্য হবে? আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় গবেষণার হার বিদেশের যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে নগণ্য। আর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় গবেষণার সুযোগ নেই বললেই চলে। বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষণার সুবাদে তাদের নিজ দেশের সমস্যা সমাধান করছে এবং মানবজাতির কল্যাণে নতুন জ্ঞান সৃষ্টির মাধ্যমে আবিষ্কার-উদ্ভাবন করে মানবজাতির হিতসাধন তথা মানব সভ্যতা বিকশিত করছে। ব্যাপারে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবদান নগণ্য
আশ্চর্যের বিষয় হলোযে সৃজনশীল পদ্ধতি কোনো বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি বা বহুমুখী জ্ঞানের অধিকারীরা গবেষণাকাজে ব্যবহার করে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি বা কিছু আবিষ্কার করেন, সেই জটিল পদ্ধতিটি আমাদের দেশের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদান শিক্ষাগ্রহণে প্রয়োগ করা হচ্ছে; বাস্তবে তা হিতকর নয়, অহিতকর। আমাদের দেশের স্কুল-কলেজের কোমলমতি শিশু-কিশোররা যথাযথ জ্ঞানলাভের আগেই কিছু সৃষ্টি করার দায়িত্ব বহন করছে সৃজনশীল শিক্ষাপদ্ধতিতে জ্ঞান আহরণ করার কারণে। সৃজনশীল শিক্ষাপদ্ধতি শিক্ষার্থীর শিক্ষণে এবং ভবিষ্যতে যেসব শিশু-কিশোর সৃজনশীল হওয়ার সম্ভাবনা আছে, তাদের সৃজনশীল মনের বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে। কেননা শেখার আগে কেউই সৃজনশীল হয় না। জ্ঞান আহরণের আগে শিক্ষার্থীকে সৃজনশীল বানানোর প্রক্রিয়া প্রচেষ্টা তার শিক্ষাজীবনকে ব্যর্থ করে দিতে পারে। কেউ গান গাইতে গাইতে যেমন গায়ক হয় তেমনি বই পড়তে পড়তে এবং শিখতে শিখতে একদিন হয়ে যায় সৃজনশীল বা সৃষ্টিশীল। সৃজনশীলতার জন্য যার যা ভালো লাগে, যা মনে আনন্দ দেয় তা স্বাধীনভাবে শিখতে হবে। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে বেঁধে দেয়া সিলেবাসনির্ভর পাঠ্যপুস্তক পড়ে কারো সৃজনশীল হওয়ার নজির নেই। জীবনের অভিজ্ঞতা, রকমারি বইপড়া, ভাষাজ্ঞানে দক্ষতা স্বাধীন ভাবনা-চিন্তা মানুষকে করতে পারে সৃজনশীল। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যপুস্তকের সীমিত জ্ঞান কিংবা কোনো পদ্ধতি বা সৃজনশীল শিক্ষাপদ্ধতি শিক্ষার্থীকে সৃজনশীল বানাতে পারে না
অধ্যাপক হকিং এবং অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদ কেন বলেছেন, বিশ্বজুড়ে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পুরনো জ্ঞান শিক্ষার্থীদের শেখানো হচ্ছে? কারণ বিশ্বজুড়ে নতুন জ্ঞান বোঝার মতো শিক্ষকের অভাব। আর আমাদের দেশে এই অভাব আরও প্রকট। বিশ্বের তাবত্ কবি-সাহিত্যিক-দার্শনিক-লেখক-বিজ্ঞানী সৃষ্টিশীল কাজ বাস্তবায়নে সৃজনশীল শিক্ষণ পদ্ধতি প্রয়োগ করেন। বস্তুত সৃজনশীল শিক্ষাপদ্ধতি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের করবে সৃজনহীন। একজন সত্ মানুষ যেমন একজন সত্ মানুষ সৃষ্টি করেন, তেমনি একজন ভালো শিক্ষক ভালো ছাত্র সৃষ্টি করতে পারেন। অনুরূপভাবে একজন সৃজনশীল শিক্ষক একজন সৃজনশীল ছাত্র বানাতে পারেন
তথ্যসূত্র: http://m.dailybartoman.com

সনাতনী শিক্ষা পদ্ধতি থেকে সৃজনশীল পদ্ধতি



আমাদের দেশের শিক্ষা পদ্ধতি হল সেই সনাতনী শিক্ষা পদ্ধতি। একজন শিক্ষক ক্লাশে যান অনুশীলনী ধরে কিছু পাঠ বুঝানোর চেষ্ঠা করেন। তারপর বাড়ীর কাজ দেন। কোমলমতি ছাত্ররা শাস্তি থেকে বাচাঁর ভয়ে না বুঝেই মুখস্ত করে আসে। তাদের জন্য এটা অত্যন্ত বিরক্তিকর একটি কাজ। শিক্ষার প্রতি তাদের আগ্রহ দিনে দিনে প্রায় শূন্যের কোঠায় এসে পৌচেছে। শুধু মাত্র অভিভাবকদের পিড়াপিড়িতে তারা শিক্ষা গ্রহণ করতে আসে। আবার মুখস্ত করতে না পারার ভয়ে অনেক ছাত্র বিদ্যালয়ে নিয়মিত অনুপস্থিত থাকে এবং এক সময় ঝড়ে পরে।

আবার পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে একধরনের ভীতি থাকে (আমার ছিল) মুখস্থ করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করায় সমস্যা দেখা দেয়। প্রশ্ন কমন পড়ে কি না, সেই দুশ্চিন্তা তাদের তাড়া করে বেড়ায়। ছাড়া নিষিদ্ধ গাইড নোটবই তাদেরকে পাঠ্যবইবিমুখ করে তুলছে। এসব সমস্যা দূর করতে সৃজনশীল পদ্ধতি প্রণয়ন করা হয়েছে। সৃজনশীল পদ্ধতিতে (পাঠ পরিকল্পনা মাফিক) শিক্ষা কিছুটা হলেও আশার আলো দেখাচ্ছে।

পদ্ধতি নিয়ে আমাদের টিচারদের মধ্যেও অনেক দিধা-দন্দ ছিল ট্রেনিং গুলোর মাধ্যমে সেই দিধা দূর হয়ে যাচ্ছে। শিক্ষকরাও বুঝতে পারছেন- পদ্ধতিতে শিক্ষা না দিলে করলে তাদের গ্রহণ যোগ্যতাও কমে যাবে।

যেমন- একজন ছাত্র, যে হাতি দেখেনি তার কাছে হাতির বর্ননা দেওয়ার চাইতে, তাকে একটি হাতির মডেল সংগ্রহ করে দেখালে বা হাতির চিত্র দেখালে তার কাছে সেটি হৃদয়গ্রাহী, উপভোগ্য এবং আকর্ষণীয় হবে। শিক্ষকের দেয়া বর্ণনা মুখস্ত করার চাইতে সে নিজেই একটি বর্ণনা তৈরি করে নিতে পারবে।

এটিই হল সৃজনশীল শিক্ষা পদ্ধতি। টিচারের দেয়া হাতির বর্ণনা দশজন ছাত্রর মধ্যে দু-জন হয়ত মনোযোগ সহকারে শুনবে বাকি আটজনই ধীরে ধীরে অমোনোযোগী হয়ে পরবে এবং তাদের কাছে শিক্ষকের এই পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের মুখস্থনির্ভরতা থেকে সরিয়ে আনবে।
এসএসসি পরীক্ষায় সৃজনশীল পদ্ধতি নেওয়া হয়েছে। যেকোনো ক্ষেত্রে নতুন একটা পদ্ধতি নেওয়ার সময় খানিকটা বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হয়। বাংলাদেশে সেটা অনেক প্রকট হওয়ার আশঙ্কা ছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটা সামলে নেওয়া গেছে বলে আমার ধারণা।

অনেক স্কুলের শিক্ষকেরা এখনো পুরোপুরি ব্যাপারটা ধরতে পারেননি। তাঁরা অনেক সময় ছাত্রছাত্রীদের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ করানোর চেষ্টা করেছেন, কিন্তু জাতীয় পরীক্ষাগুলোয় তার কোনো আশঙ্কা নেই। পদ্ধতির কারণে ধীরে ধীরে প্রাইভেট কোচিং উঠে যাবে এবং নোট বা গাইড বইয়ের মৃত্যু ঘটবে। সবচেয়ে বড় লাভ হবে দেশের। কারণ, ছেলেমেয়েরা একটা শাণিত মস্তিষ্ক নিয়ে বড় হবে, যেটি আমরা প্রথমবার ব্যবহার করতে পারব। সৃজনশীল পদ্ধতিতে লেখাপড়া করে যারা বড় হচ্ছে, আমি আগ্রহের সঙ্গে তাদের জন্য অপেক্ষা করছি। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে তারা যখন পৌঁছাবে, আমি জানি, তখন তারা সবাই হবে ক্ষুরধার মস্তিষ্কের বুদ্ধিদীপ্ত সৃজনশীল একটি প্রজন্ম।

আমার কাছে প্রশ্ন এসেছে, এইচএসসিতে সৃজনশীল পরীক্ষা হবে কি না, হলে কতটুকু হবে। এটা কি আদৌ একটা প্রশ্ন হতে পারে? একটি শিশুকে আমি মুক্ত বাতাসে ছুটে বেড়িয়ে বড় হতে দিয়েছি, এখন আমরা কি তাকে অন্ধকার ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখব? যে ছাত্রছাত্রীদের সৃজনশীল প্রশ্নে পরীক্ষা দিতে অভ্যস্ত করেছি, তাদের আমরা কি কখনো মুখস্থনির্ভর গতানুগতিক একটা পরীক্ষায় ফেলে দিতে পারি? পারি না।
এইচএসসি পরীক্ষায় অবশ্যই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে, অবশ্যই সৃজনশীল পদ্ধতিতে তার পরীক্ষা নিতে হবে


বগুড়া সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়র সহকারী শিক্ষক মো. জুলফিকার আলীবলেছেন,
বর্তমান মাধ্যমিক স্তরের পরীক্ষা পদ্ধতির সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে মাধ্যমিক পর্যায়ে সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। মাধ্যমিক পর্যায়ে সৃজনশীল পদ্ধতি শিক্ষার ক্ষেত্রে গুণগত মানোন্নয়নের জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের একটি কর্মসূচি হিসেবে তাত্পর্যপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে বলে সর্বমহলে স্বীকৃত বিষয় হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। এই পদ্ধতিতে শিক্ষার ক্ষেত্রে ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। নতুন পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল প্রতিভা তথা জ্ঞান, অনুধাবন, বিশ্লেষণ উচ্চতর দক্ষতার বিকাশ ঘটাবে। এই পদ্ধতি নোট বই, গাইড বই বা বিভিন্ন ধরনের সহায়ক বইয়ের ওপর শিক্ষার্থীদের নির্ভরশীলতা থাকবে না। তারা তাদের মেধা মননশীলতা বিকাশের সুযোগ পাবে। সৃজনশীল পদ্ধতি বাস্তবায়নে মূল চালিকাশক্তি শিক্ষকদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসতে হবে। এই পদ্ধতি বাস্তবায়নের জন্য সরকারি উদ্যোগে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এই পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের কোনো বিষয় আর পূর্বের মত হুবহু মুখস্থ করতে হবে না। শিক্ষার্থীরা কোনো বিষয় বুঝে উপলব্ধি করে তার অর্জিত জ্ঞান প্রযোগ করতে পারবে। যা পরবর্তী জীবনে তাকে তার কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে সহায়ক হবে। এই পদ্ধতিতে প্রতিটি প্রশ্ন্নের মান থাকে ১০। প্রত্যেকটি প্রশ্ন , , চারটি ভাগে বিভক্ত থাকে। এবং নং প্রশ্নের উত্তর উদ্দীপক ছাড়াই করা যাবে। এখানে উদ্দীপকের সাহায্য প্রয়োজন হবে না। কিন্তু নং প্রশ্নের উত্তরের জন্য উদ্দীপকের সাহায্য নিতে হবে। অংশে থাকে এক নম্বর, অংশে দুই, অংশে তিন এবং অংশে থাকে চার নম্বর।

সৃজনশীল প্রশ্নে একটি উদ্দীপক থাকবে যা একজন শিক্ষার্থীকে প্রশ্নের অনুধাবন ক্ষমতা অর্জনে সহায়ক হবে। প্রশ্নের অংশ হলো জ্ঞানমূলক। যার উত্তর একজন শিক্ষার্থী খুব সহজেই করতে পারবে। অংশে থাকবে অনুধাবনমূলক প্রশ্ন। যা একজন শিক্ষার্থী সামগ্রিক অবস্থা অনুধাবন করে অর্থাত্ বুঝে লিখতে পারবে। অংশে থাকবে প্রয়োগমূলক প্রশ্ন। আলোচনার সুবিধার্তে বলা যায়, প্রয়োগমূলক অংশের নম্বরের মধ্যে শিক্ষার্থীর আলোচনা যদি জ্ঞানমূলক পর্যায়ে থাকে তাহলে সে ক্ষেত্রে তাকে নম্বর দেয়া যেতে পারে। আর যদি তার আলোচনা অনুধাবনমূলক হয় তাহলে তাকে নম্বর দেয়া যাবে। আর যদি শিক্ষার্থীর অংশের আলোচনায় জ্ঞানমূলক, অনুধাবন প্রয়োগমূলক দিক থাকে তাহলে তাকে নম্বর দেয়া যাবে। এভাবে একজন শিক্ষার্থীকে যে কোনো প্রশ্ন বুঝে তার জ্ঞানমূলক, অনুধাবনমূলক প্রয়োগমূলক দিক উপস্থাপন করতে হবে। অনুরূপভাবে উচ্চতর দক্ষতা যাচাই অংশে তার আলোচনা যদি জ্ঞানমূলক, অনুধাবন, প্রয়োগমূলক উচ্চতর দক্ষতা যাচাই করে তাহলে তাকে নম্বর দেয়া যাবে। এই দিকগুলো গুরুত্বসহকারে দেখলে একজন শিক্ষার্থীর পক্ষে গদ বাঁধা ছক মুখস্থ না করে খুব সহজেই ভালো ফলাফল করা সম্ভব হবে

তথ্যসূত্র: www.amarblog.com
 

শিক্ষার্থীরা কতটা সৃজনশীল?



সৃজনশীল শিক্ষা পদ্ধতি প্রণয়ন একটি খুবই সময়োপযোগী একটি পদক্ষেপ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। প্রশ্ন হচ্ছে এই পদ্ধতি প্রণয়ন এর ফলে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা কতটুকু বৃদ্ধি পাচ্ছে? আমার ব্যাক্তিগত মতামত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বৃদ্ধির পূর্বে প্রয়োজন শিক্ষকদের সৃজনশীলতা বৃদ্ধি করা। এক্ষেত্রেও একটি প্রশ্ন থেকে যায়। শিক্ষকরা কতটা সৃজনশীল? আমার দু'জন ছাত্র আছে তাদের কে পড়ানোর সুবাদে আমি ব্যাপারটি সম্পর্কে কিছুটা দুঃশ্চিন্তায় আছি।

সৃজনশীল পদ্ধতি বলতে যতটুকু বুঝেছি তা হল শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা যাচাই করা। তারা পাঠ্য বই -এর বিষয়বস্তু কতটা হৃদয়ঙ্গম করতে সক্ষম হয়েছে তা বিচার করা। এক্ষেত্রে পরীক্ষায় কি ধরনের প্রশ্ন থাকবে সে সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের কোন ধারনা থাকবে না। তাদেরকে নির্দিষ্ট সিলেবাস থেকে প্রশ্ন করা হবে এবং তারা নিজেদের মত করে উত্তর পত্রে উত্তর লিখবে। কিন্তু একটা বিষয় লক্ষ করলাম সৃজনশীলতার নামে শিক্ষার্থীরা বাজারের নোট বই এর প্রতি বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। আর পাঠ্য বইয়ের বিষয়বস্তুতে কোন পরিবর্তন না আনায় শিক্ষার্থী এবং নোট বই প্রস্তুতকারীরা খুব সহজেই ধারণা করতে পারছে পরীক্ষায় কি ধরনের প্রশ্ন থাকতে পারে।
এবার আমার আরো একটি প্রশ্ন। এই পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীরা কতটুকু লাভবান হচ্ছে? আমার জানা বিষয় থেকেই বলছি। চট্টগ্রামের একটি স্বনামধন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদেরকে নির্দিষ্ট করে বলে দেয় যে তোমরা অমুক গাইড কিনবে। অমুক গাইড থেকে না লিখলে নাম্বার দিব না, ইত্যাদি ইত্যাদি। এতে শিক্ষার্থীরাও একদিক দিয়ে খুশি হয়। তারা ভাবে আরে ওই গাইড থেকে প্রশ্নত্তোরগুলো শিখলেইতো হল। সিলেবাসের সবকিছু পড়ার কি দরকার? কারণ শিক্ষকরাতো ওই গাইড থেকেই প্রশ্ন করবেন। সুতরাং এত পড়ে কি লাভ?
আমাদের দেশের শিক্ষা নীতি প্রণয়নকারীরা আসলে কি ভেবে প্রতি বছর নতুন নতুন পদ্ধতি প্রণয়ন করেন তা আমি ভেবে পাই না। এই ধরনের পদ্ধতি প্রণয়নের আগে তাদের উচিত ছিল নোট বই বাজার থেকে তুলে দেয়া। তুলে দেয়া তো দূরের কথা সরকারী নিয়ন্ত্রনাধীন টিভি চ্যানেল বিটিভিতে তো ঘটা করে এসব নোট বই-এর বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়।
আশাকরি আপনাদের মনে আছে প্রথম যখন গ্রেডিং সিস্টেম চালু করা হয়েছিল তখন গ্রেডিং সিস্টেম কি জিনিস এটাই অনেকে জানতেন না। আমাদের শিক্ষা ব্যাবস্থা এতই বাজে যে বলার মত না। একজন শিক্ষার্থী দেখা গেল ৬ষ্ঠ শ্রণীতে এক পদ্ধতিতে পড়াশুনা করল তো ৭ম শ্রেণীতে উঠে আরেক পদ্ধতি। আজকে আবার দেখলাম জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নাকি ভেঙ্গে দেয়া হবে। শিক্ষা ব্যবস্থার নামে এই হয়রানি আর কতদিন?

বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর করার ক্ষেত্রে


পরীক্ষা প্রায় দোরগোড়ায় এসে গেছে। এখন নতুন করে কিছু পড়ার সুযোগ কম। তাই যা পড়েছ, সেগুলোর মধ্যে কোনো কিছু না বুঝে পড়ে থাকলে, সেটি একটু বুঝে পড়ে বিষয়ে তোমার ধারণা ক্লিয়ার করো। সেইসাথে বইয়ের বিভিন্ন বিষয়বস্তুর সাথে পারিপার্শ্বিক বিভিন্ন বিষয়ের সম্পর্ক করার চেষ্টা করো। তাহলেই তুমি সৃজনশীল প্রতিটি প্রশ্ন ভালো করে উত্তর করতে পারবে। প্রিয় পরীক্ষার্থী, তুমি জানো, ভালো ফলের জন্য শুধু ভালো প্রস্তুতি থাকলেই চলবে না, ভালো প্রস্তুতির প্রমাণ রাখতে হবে। তুমি কী ধরনের ছাত্র/ছাত্রী তা পরীক্ষক দেখবেন না। তিনি দেখবেন তুমি পরীক্ষার খাতায় কেমন উপস্থাপন করেছ। তাই আজ আমি পরীক্ষার খাতায় উত্তর লেখার ব্যাপারে কিছু কথা বলবো
অনেকসময় পরীক্ষার প্রশ্ন একটু কঠিন হলেই ছাত্র-ছাত্রীরা ঘাবড়ে যায় এবং প্রথম দিকে হাল ছেড়ে দিয়ে অনেকটুকু সময় নষ্ট করে ফেলে। এইক্ষেত্রে মনে রাখবে, তোমার যেরকম পরীক্ষা হবে তোমার অন্যান্য লাখো বন্ধুদেরও প্রায় তেমনটিই হবে। তাই পরীক্ষার প্রশ্ন দেখে কোনো কারণেই ভয় পাবে না। প্রথমে যে প্রশ্নটির উত্তর সবচেয়ে ভালো পারবে সেটি খুব তাড়াতাড়ি লিখে ফেলবে। এরপর আস্তে আস্তে দেখবে তুমি সবগুলো প্রশ্নের উত্তরই কমবেশি পারছো
সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর করার ক্ষেত্রে উত্তর হতে হবে প্রাসঙ্গিক। কোনো একটি প্রশ্নের উত্তরে অযথা বাড়তি কিছু লিখলে অতিরিক্ত কোনো নম্বর পাবে না। শুধু শুধু সময় নষ্ট হবে। তাই অপ্রাসঙ্গিক কোনো কিছুই লিখবেনা
সৃজনশীল প্রশ্নের’-এর উত্তর দেয়ার সময় অনেক পরীক্ষার্থী উদ্দীপকের কথা উল্লেখই করেনা। এটি একটি মস্ত বড় ভুল। তাই এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই উদ্দীপকের প্রেক্ষাপটে উত্তর দিবে। এই প্রশ্ন দুটির পাশাপাশি সৃজনশীল প্রশ্নের অন্যান্য প্রশ্নগুলো কিভাবে উত্তর করবে তা নিচে আলোচনা করা হলঃ
নম্বর প্রশ্নের উত্তর করার ক্ষেত্রেঃ
এই প্রশ্নটির নম্বর ১। এর উত্তরটি একটি শব্দে, একাধিক শব্দে বা সর্বোচ্চ একটি বাক্যে দেওয়া যেতে পারে। সব ক্ষেত্রেই তুমি নম্বর পাবে। অযথা উত্তরের আকার বড় করলে তুমি এই নম্বরের বেশি পাবে না। আবার এক শব্দে সঠিক উত্তর লিখলেও স্যার/ম্যাডাম তোমাকে নম্বরের কম দিতে পারবে না। তবে উত্তরটি একটি পূর্ণ বাক্যে হলেই ভালো হয়। ধরনের প্রশ্নের উত্তর তোমাকে স্মৃতি থেকে দিতে হবে। তাই কী, কে, কখন, কোথায়, কাকে বলে এই জাতীয় প্রশ্নের উত্তরগুলো ভালো করে মুখস্থ করে নাও।
নম্বর প্রশ্নের উত্তর করার ক্ষেত্রেঃ
নম্বর প্রশ্নের মোট নম্বর ২। এই প্রশ্নে সাধারণত কী বোঝায়, ব্যাখ্যা করো, বর্ণনা করো, কেন ঘটনা ঘটেছে ইত্যাদি জানতে চাইবে। এই প্রশ্নটির উত্তর দেয়ার ক্ষেত্রে একটু বুঝতে চেষ্টা করবে তুমি কোন প্রসঙ্গটি ব্যাখ্যা করতে যাচ্ছ। প্রথমেই প্রসঙ্গটি একটু সঙ্গায়িত করে নেবে। উত্তরের এই অংশটি হলো জ্ঞান অংশ, যার জন্য তুমি পাবে নম্বর। তারপর প্রসঙ্গটি কয়েকটি বাক্যে নিজের ভাষায় ব্যাখ্যা করো বা বুঝিয়ে লেখো। উত্তরের এই অংশটি হলো অনুধাবন অংশ, যার জন্য তুমি পাবে আরও নম্বর। তুমি যদি শুধু জ্ঞান অংশটি  লিখ তবে নম্বর পাবে। আর অনুধাবন অংশ সহ পুরো উত্তরটি লিখতে পারলে তুমি পেয়ে যাবে পুরো নম্বর। এইক্ষেত্রে উত্তরটি দুই প্যারায় দিতে পারলে ভালো।
নম্বর প্রশ্নের উত্তর করার ক্ষেত্রেঃ
নম্বর প্রশ্নের মোট নম্বর ৩। এই প্রশ্নে উদ্দীপকের প্রদত্ত ক্ষেত্রে কোনো একটি প্রসঙ্গ ব্যাখ্যা করতে বলে বা বর্ণনা করতে বলে কিংবা কোনো সূত্র, নিয়ম, তত্ত্ব, নীতি, পদ্ধতি ইত্যাদি প্রয়োগ করে কিছু নির্ণয় করতে বলে।এই প্রশ্নটির উত্তর করার আগে ভালো করে উদ্দীপক প্রশ্নটি পড়ে কোন প্রসঙ্গটি নিয়ে তোমাকে উত্তর করতে হবে সেটি বুঝার চেষ্টা করতে হবে। এইক্ষেত্রে যে প্রসঙ্গটি ব্যাখ্যা করতে বলে বা যে প্রসঙ্গটি নিয়ে আলোচনা করতে বলে বা যেটি নির্ণয় করতে বলে, সেটি প্রথমে সঙ্গায়িত করে নিতে হবে বা আনুষঙ্গিক কোনো সূত্র বা তত্ত্ব থাকলে তা লিখতে হবে। উত্তরের এই অংশটি হলো জ্ঞান অংশ। এর জন্য তুমি পাবে নম্বর। উক্ত প্রসঙ্গটি নিজের ভাষায় বুঝিয়ে লিখতে পারলে তুমি পেয়ে যাবে আরও নম্বর। উত্তরের এই অংশটি হলো অনুধাবন অংশ। আর উদ্দীপকের প্রদত্ত ক্ষেত্রে উক্ত প্রসঙ্গটি বা সূত্রটি প্রয়োগ করতে পারলে অর্থাৎ, উদ্দীপকের প্রদত্ত ক্ষেত্রে উক্ত প্রসঙ্গটি কীরূপ হবে তা লিখতে পারলে বা সূত্র প্রয়োগ করে কিছু নির্ণয় করতে পারলে তুমি পেয়ে যাবে আরও নম্বর। উত্তরের এই অংশটি হলো প্রয়োগ অংশ। তুমি যদি এক্ষেত্রে শুধু জ্ঞান অংশটি লিখতে পারো, তবে পেয়ে যাবে নম্বর। আবার তুমি যদি জ্ঞানের সাথে অনুধাবন অংশটি লিখতে পারো তবে পেয়ে যাবে আরও নম্বর। আর যদি তুমি প্রয়োগ অংশ সহ পুরো উত্তরটি সঠিকভাবে লিখতে পারো তবে পেয়ে যাবে পুরো নম্বর। এইক্ষেত্রে উত্তরটি দুই থেকে তিন প্যারায় লিখতে পারলে ভালো।
নম্বর প্রশ্নের উত্তর করার ক্ষেত্রেঃ
নম্বর প্রশ্নের মোট নম্বর এইক্ষেত্রে উদ্দীপকের প্রদত্ত ক্ষেত্রে কোনো একটি প্রসঙ্গ ব্যাখ্যা করে এর থেকে সিদ্ধান্ত নিতে বা ধারণা সৃষ্টি করতে বলে, কিংবা উদ্দীপকের প্রদত্ত ক্ষেত্রে কোনো একটি প্রসঙ্গ সম্পর্কে একটি উক্তি বা বিবৃতি মূল্যায়ন করতে বলে  কিংবা কোনো একটি ঘটনা বিশ্লেষণ করতে বলে।নম্বর প্রশ্নের মতোই এই প্রশ্নটির উত্তর করার আগে ভালো করে উদ্দীপক প্রশ্নটি পড়ে কোন প্রসঙ্গটি নিয়ে তোমাকে উত্তর করতে হবে সেটি বুঝার চেষ্টা করতে হবে উত্তরের শুরুতে উক্ত প্রসঙ্গটি প্রথমে সঙ্গায়িত করে নিতে হবে। উত্তরের এই অংশটি হলো জ্ঞান অংশ। এর জন্য তুমি পাবে নম্বর। প্রসঙ্গটি নিজের ভাষায় বুঝিয়ে লিখতে পারলে তুমি পেয়ে যাবে আরও নম্বর। উত্তরের এই অংশটি হলো অনুধাবন অংশ। আর উদ্দীপকে প্রদত্ত ক্ষেত্রে এই প্রসঙ্গটি প্রয়োগ করতে পারলে অর্থাৎ, উদ্দীপকে প্রদত্ত ক্ষেত্রে উক্ত প্রসঙ্গটি কীরূপ হবে তা লিখতে পারলে তুমি পেয়ে যাবে আরও নম্বর। উত্তরের এই অংশটি হলো প্রয়োগ অংশ। আর তুমি যদি উদ্দীপকের প্রদত্ত ক্ষেত্রে প্রসঙ্গটি প্রয়োগ করার পর এর থেকে নতুন করে কোনো একটি সিদ্ধান্তে আসতে পারো, কিংবা কোনো একটি উক্তি সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে পার কিংবা কোনো একটি ঘটনার পিছনের কারণগুলো কী ব্যাখ্যা করতে পারো (প্রশ্নে যেটি চাওয়া হয়েছে সেই অনুসারে), তবে তুমি পেয়ে যাবে আরও নম্বর। উত্তরের এই অংশটি হলো উচ্চতর দক্ষতা অংশ। এক্ষেত্রে শুধু জ্ঞান অংশটি লিখতে পারলে তুমি পেয়ে যাবে নম্বর। জ্ঞানের সাথে অনুধাবন অংশটি লিখতে পারলে তুমি পেয়ে যাবে আরও নম্বর। আর যদি তুমি প্রয়োগ অংশটিও লিখতে পারো তবে পেয়ে যাবে আরও নম্বর। আর উচ্চতর দক্ষতার অংশটি সহ পুরো উত্তরটি সঠিকভাবে লিখতে পারলে তুমি পেয়ে যাবে পুরো নম্বর। এইক্ষেত্রে উত্তরটি তিন থেকে চার প্যারায় লিখতে পারলে ভালো। তোমার জানা থাকা ভালো, উত্তরের জ্ঞান, অনুধাবন, প্রয়োগ উচ্চতর দক্ষতার অংশগুলো অনেক সময়ই আলাদা করে পর পর লেখা সম্ভব হয়না। সেক্ষেত্রে প্রশ্নটির উত্তর সাজিয়ে লেখার প্রয়োজনে এই অংশগুলো আগে পরে কিংবা একসাথে লেখা যেতে পারে
তাহলে তুমি নিশ্চয় বুঝতে পারছো, ‘বাপ্রশ্নের উত্তরে শুধু জ্ঞান বা অনুধাবন অংশটি লিখেও তোমার বা নম্বর পাওয়ার সুযোগটি থাকছে। (একইভাবেপ্রশ্নের উত্তরে শুধু জ্ঞান অংশটি লিখেও তুমি নম্বর পেতে পারো।) তাই যদি কোনো একটি সৃজনশীল প্রশ্নেরনম্বর প্রশ্নের উত্তর কী হবে তা তুমি পুরোপুরি বুঝতে না পারো, সেক্ষেত্রে অন্তত প্রাসঙ্গিক জ্ঞান অনুধাবন অংশগুলো  লিখে এসো। উত্তর সঠিক হলে এইক্ষেত্রে তুমি নম্বর পেয়ে যাবে। তাই হাতে সময় থাকলে কোনোভাবেই কোনো প্রশ্নের উত্তর না করে এসোনা। সবগুলি প্রশ্নের উত্তরে প্রাসঙ্গিক কিছু না কিছু লেখার চেষ্টা করবে। আরেকটি ব্যাপার, তুমি এই আংশিক নম্বর পাওয়ার প্রচেষ্টা তখনই শুধুমাত্র করবে, যখন তোমার অন্যান্য প্রশ্নের উত্তর লেখা দেখা শেষ কিন্তু হাতে কিছুটা সময় থাকবে
তথ্যসূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক